২০০ বছরের পুরনো সীতারামের দিঘী ভরাট রোধে রুল জারি

বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডস্থ কাশীপুর এলাকার ২০০ বছরের পুরানো সীতারামের দিঘী বালু দিয়ে ভরাট ও এর মালিকানা দাবির বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সাথে বরিশালের জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালককে এ বিষয়ে তদন্ত করে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এর নিকট প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।

পাশাপাশি ওই দিঘীতে মাটি ভরাট কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এসএ ও আরএস পর্চা ম্যাপ অনুসারে দিঘীটি পূর্বের অবস্থায় কেন ফেরত নেওয়া হবে না এবং দিঘীর চারদিকে পিলার দিয়ে কেন সৌন্দর্য্য বর্ধন করে সংরক্ষণ করা হবে না, সে বিষয়ে জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

ঐতিহ্যবাহী ওই দিঘীটি ভরাট ঠেকাতে জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (৪ জানুয়ারি) বিচারপতি জে.বি.এম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলম’র সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হাসান তারিক পলাশ। এসময় তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী আরিফ আহমেদ।

জানাগেছে, বরিশাল নগরীর কাশীপুর বাজার সংলগ্নে বৃহৎ আয়োতনের একটি দিঘী রয়েছে। স্থানীয়ভাবে দিঘীটি সীতারামের দিঘী নামে পরিচিত। এক সময় চন্দ্রদ্বীপ রাজবংশের অন্তর্গত ২ দশমিক ৯৮ একরের এই দিঘী ছাড়াও ১ দশমিক ৩৯ একর জায়গায় স্থাপিত হয়েছে ইউনিয়ন ভূমি অফিস। যা একটি বৃহদাকার ভবন নিয়ে গঠিত। ভূমি অফিস এবং দিঘী একই সম্পত্তি বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুর রহমান।

জানাগেছে, এসএ খতিয়ানের ভূমি অফিসের বালামে মুকুন্দ লাল বোস, জয়ন্ত লাল বোস, রাজকুমার বোস, গুন্ডা সুন্দরী বোস, বসন্ত কুমার বোস প্রমুখকে এই দিঘীর মালিক হিসাবে দেখানো হয়েছে। সবশেষ ১৯৫৪ সালে সৈয়দ কাওছার হোসেনের নামে জমিটি নিবন্ধিত হয়।

স্থানীয়ভাবে জানাগেছে, কাশীপুর, মাধবপাশা এবং মুলাদীতে যখন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছিল তখন অর্থাৎ ১৯৫০ সালে এ জমির মালিকগণ ভারতে চলে যান। পরবর্তীতে প্রকৃত মালিকের অনুপস্থিতিতে হাতেম মীরা নাম মাত্র মূল্যে জমিটি ক্রয় করেন। পরে তার পুত্র সৈয়দ কাওছার হোসেন মালিক হন।

এদিকে, সরেজমিনে দেখাগেছে, দিঘীটিকে ঘিরে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে ওই এলাকার পরিবেশ। বিকেল হলেই এলাকার শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ চিত্ত বিনোদনের জন্য ভিড় করছেন দিঘীর পাশে। তাছাড়া সকালে এবং রাতে শারীরিক কসরত এবং হাঁটার নিরাপদ জায়গা হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে দিঘীর চারপাশ। এ কারণে স্থানীয়দের দীর্ঘ দিনের দাবি দিঘীটি সংরক্ষণসহ এর চার পাশে ওয়াক ওয়ে এবং সৌন্দর্য বর্ধনের।

কিন্তু তার মধ্যে হঠাৎ করেই প্লট ব্যবসার পরিকল্পনা নিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলী হোসেন হাওলাদার ওই দিঘীটির মালিকানা দাবি করে ভরাট কার্যক্রম শুরু করেন। এমনকি স্থানীয়দের শত বাধা সত্ত্বেও ট্রাকে করে বালু এনে কিছু অংশ ভরাট করে ফেলেছেন। এ নিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় এবং জাতীয় গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে বরিশালের বিভাগীয় পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন নাগরিক অধিকারের পক্ষে আইনজীবী সাইমুল ইসলাম রাব্বী গত ১৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

এর আগে গত ৬ জুন ঐতিহ্যবাহী এই দিঘীটি ভরাট রোধে সাবেক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। কিন্তু সেই নোটিশের কোন জবাব না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট করা হয়।