করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেল লেগেছে দক্ষিণাঞ্চলে!

 শীতের শুরুতেই বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ আসতে শুরু করেছে। যার দরুণ প্রতিটি জেলা এবং মহানগরীতে ক্রমশ বাড়ছে করোনায় সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা। মৃত্যুর সংখ্যাও এগিয়ে যাচ্ছে একটি, দুটি করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। আর প্রস্তুতি বলতে করোনা মোকাবিলায় মাস্ক ছাড়া বিকল্প নেই। তাই নিজে মাস্ক পরে, অন্যকে মাস্ক পরতে উৎসাহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অপরদিকে, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছে বরিশাল জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। এরই মধ্যে তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন। মাস্ক না পরা ব্যক্তিদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানাসহ সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, ‘শীতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শীতের শুরুতেই বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলে সেই ধারণা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। অর্থাৎ এ অঞ্চলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ লেগেছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরের তুলনায় চলতি নভেম্বরে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আর দিন যত যাচ্ছে এর সংখ্যাও ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবশেষ হিসাব অনুযায়ী বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৫৩১ জন মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে ৮ হাজার ৭১১ জন সুস্থতা লাভ করলেও মৃত্যুবরণ করেছে ১৮২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র এক হাজার ৪৯৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য অফিস আরও জানিয়েছে, চলতি মাষের শুরুর দিকে হালকা শীত পড়তে শুরু করেছে। চলতি নভেম্বর মাসের ১ তারিখে বরিশাল বিভাগে করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র সাতজন। একই দিন সুস্থতা লাভ করেন ২১ জন। এর পর থেকেই শনাক্ত বাড়তে থাকে করোনায় আক্রান্ত করোগীর সংখ্যা।
এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ‘চলতি মাসের গত ৮ নভেম্বর করোনা আক্রান্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩ জন, এরপর ১৬ নভেম্বর ৪৬ জন, ১৭ নভেম্বর ২৫ জন, ১৮ নভেম্বর ২৩ জন, ১৯ নভেম্বর ২২ জন এবং ২০ নভেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ৩৩ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ এ.এস.এম আহসান কবির জানিয়েছেন, ‘চলতি মাসের পূর্বে গরম ছিল, তখন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমছিল। তবে শীতের শুরু থেকেই সংক্রমণের হার বেড়ে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানিয়েছেন, ‘শীতে করোনার ভাইরাস থেকে সকলকে সতর্ক থাকতে বলেছে সরকার। কেননা শীতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বলতে গেলে শীতের শুরুতেই করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ লেগেছে। পরিসংখ্যান এমনটাই বলছে। পূর্বের তুলনায় বর্তমানে আক্রান্তের হার বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে আক্রান্ত শনাক্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল জেলা এবং সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বেশি। শীত বাড়ার সাথে সাথে এটা ভয়াবহ রূপ নেয়ার আগেই সকলকে সতর্ক থাকতে বলেছেন তিনি।
স্বাস্থ্যবিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘করোনা থেকে রক্ষায় আমাদের একমাত্র উপায় মাস্ক ব্যবহার করা। যেহেতু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়, সেকারণে মাস্ক পরা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং গণজমায়েত এড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সম্প্রতি জেলা এবং পুলিশ প্রশাসনের অভিযানে ভয়ের কারণে হলেও মানুষ মাস্ক পরতে শুরু করেছে। তাই অভিযান আরও জোরালো করতে হবে। তবে অভিযানের থেকেও মানুষের মাঝে সতর্কতা সৃষ্টি বড় বিষয়। মানুষ নিজে থেকে সতর্ক হলে নিজে এবং পরিবারকে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব হলে জানান তিনি।