মামলা থেকে বাচতে জরুরী বিভাগে তালা দিয়ে আন্দোলন করেছিল ইন্টার্নরা

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-৪ এর সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাসুদ খানের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি নিজেই বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় ইন্টার্ন ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলাটি দায়ের করেন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে হাসপাতালে বিক্ষোভ করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তারা হাসপাতালের জরুরী বিভাগসহ সকল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। এর ফলে রোগী ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বেকায়দায় পড়ে রোগী এবং তাদের স্বজনরা।

খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন, মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. এসএম সারওয়ার এবং থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে হাসপাতাল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের আশ্বাসে গভীর রাতে শুক্রবার বেলা ১২টা পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

জানাগেছে, ‘হাসপাতালের সামনে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন বাণিজ্য নিয়ে গত ২০ অক্টোবর থেকে শেবাচিম হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে মেডিসিন ইউনিট-৪ এর সহকারী রেজিষ্ট্রারের বিরোধ চলে আসছে।

এ নিয়ে ওই দিন সহকারী রেজিষ্ট্রার ডা. মাসুদ খানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও ইন্টার্নদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় ২১ অক্টোবর পরিচালক বরাবর অভিযোগ দেন ডা. মাসুদ খান। এর পর ২২ অক্টোবর মাসুদ খানের বিচার চেয়ে পাল্টা অভিযোগ দেন ইন্টার্নরা।

এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে দিয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার আগেই বৃৃহস্পতিবার রাতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন ডা. মাসুদ খান।

এদিকে ইন্টার্র্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে শুক্রবার দুপুুরে কোতয়ালী মডেল থানায় যান হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন। এসময় তার সাথে ছিলেন কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক।

এসময় হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনগত করনীয় নির্ধারণে তিনি থানায় এসেছেন। বিষয়টি নিয়ে থানার ওসি’র সাথে আলোচনা করেছেন বলেও জানিয়েছেন পরিচালক।

এদিকে শেবাচিম শাখা ইন্টার্ন ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নুর ইসলাম দিপু বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ’র সাথেথ আলোচনা করে পরবর্তী করনীয় নির্ধারণ করা হবে।

অপরদিকে মামলার বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম বলেন, মামলার বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে হাসপাতালের সকল গেটে তালা ঝুলিয়ে ডা. মাসুদ খানের বিচার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এর ফলে চরম বেকায়দায় পড়েন রোগী ও স্বজনরা।