ইন্দুরকানীর বালিপাড়া ইউনিয়ন আলীম মাদরাসায় কর্মচারি নিয়োগে অধ্যক্ষের ১৬ লাখ টাকার নিয়োগ বানিজ্য

পিরোজপুর প্রতনিধি :
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়ন আলিম মাদ্রাসায় কর্মচারি নিয়োগে ৩টি পদে ১৬ লাখ টাকার নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ মাওলানা মো: আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে। নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ ওঠায় বিভিন্ন মহলে সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে এখন।

সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এক লোক দেখান পরীক্ষার মাধ্যমে অফিস সহকারি, নাইট গার্ড ও আয়া এ তিনটি পদে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। নাইট গার্ড ও আয়া পদের জন্য পছন্দের প্রার্থীর নিকট থেকে ১২ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহন করেছে। এছাড়া অফিস সহকারি পদের জন্য ৫ লক্ষ টাক নেন অধ্যক্ষ। তিনি ছাড়াও তার সাথে আরো কয়েকজন এ নিয়োগ বানিজ্যের সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলে সত্যতা মিলেছে। আর এ্ঘটনা নিয়ে এলাকায় এখন ব্যাপক তোলপাড় চলছে।

মাদ্রাসার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নিয়োগ পরীক্ষার আগের দিন ডিজির এক প্রতিনিধি পিরোজপুর এসে একটি হোটেলে উঠেন। সেখানে বসে তিনটি পদে নিয়োগের ব্যাপারে দরকষাকষি হয় অধ্যক্ষের সাথে। পরে প্রতিটা পদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে দেড় লাখ টাকা সহ খরচ বাবদ আরো ১৫ হাজার টাকার চুক্তি হয় তার সাথে। এরপর ঐ হোটেলে বসে তাকে এক লাখ টাকা প্রদান করেন অধ্যক্ষ। বাকি ৫০ হাজার টাকা নিয়োগ চুড়ান্ত হওয়ার পরে দেবেন বলে তার সাথে কথা হয়। ঐদিনই তার কাছ থেকে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে আসেন তিনি। এরপর নিয়োগ পরীক্ষার আগের দিন পূর্বে বাছাইকৃত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র গোপনীয় ভাবে পৌছে দেন অধ্যক্ষ নিজে। নিয়োগ বানিজ্যের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে পরে চন্ডিপুর হাটের একটি বাসায় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সাথে সমঝোতার জন্য একাধিকবার গোপন বৈঠক হলে এ বিষয়টি বিভিন্ন মহলে জানাজানি হয়ে যায়। পরে অধ্যক্ষ সংশ্লিস্টদের ম্যানেজ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করেন। তিনটি পদে প্রার্থীদের কাছ থেকে নেয়া মোট ১৬ লাখ টাকার মধ্যে ডিজির প্রতিনিধির জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং মাদ্রাসার উন্নয়ন ফান্ডে ১ লাখ টাকা রাখা হয়। বাকি টাকা অধ্যক্ষ সংশ্লিস্টদের নিয়ে ভাগ বাটোয়ারা করে নেন।

এর আগেও ঐ প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক কর্মচারি নিয়োগে ১৮ লাখ টাকার নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ ওঠে ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে।

নিয়োগ বঞ্চিত নাইট গার্ট পদের প্রার্থী মো: মজিবর জানান, সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় এ নিয়োগটি হয়েছে। কোন পদে কাকে নেয়া হবে তা পরীক্ষার দেড়মাস আগে প্রার্থীদের সিলেক্ট করে রাখা হয়েছে। যাদেরকে নেয়া হয়েছে তাদের কারোরিই টাকা ছাড়া নিয়োগ হয়নি।

বালিপাড়া ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আকবর বেপারি অভিযোগ করে জানান, মাদ্রাসায় তিনটি পদে নিয়োগের ব্যাপারে পরীক্ষার কয়েক মাস আগে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা জমা নেয়া হয়। পরীক্ষার আগের দিন নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের কাছে গোপনে প্রশ্নপত্র দিয়ে আসেন অধ্যক্ষ নিজে। প্রার্থীদের মধ্যে স্ব-স্ব পদে যারা টাকা বেশি দিয়েছে তাদের নিয়োগ হয়েছে। আর যাদের বাদ দেয়া হয়েছে তাদের টাকা পরে ফেরত দেয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ সহ আরো কয়েকজন এই নিয়োগ বানিজ্যের সাথে জড়িত ছিল। তার এক নিকট আত্মীয় আয়া পদে প্রার্থী ছিলেন বলে তিনি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য জানান, আমরা এই নিয়োগ বাতিল চেয়ে ছিলাম যেহেতু নিয়োগ পরীক্ষার আগের দিন অধ্যক্ষ প্রশ্ন পত্র তার পছন্দের এক আয়া প্রার্থী সুখি আক্তারের বাড়ি পৌছে দিয়েছে এটা প্রমানিত হওয়ার জন্য। এবং তার কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা উৎকোচ নেন এই অধ্যক্ষ।
নিয়োগ বানিজ্যের বিষয়ে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সহিদুল ইসলাম দোদুল জানান, এই নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ অধ্যক্ষ ডিল করেছে। আমি এর মধ্যে ছিলামনা। এখানে কি হয়েছে না হয়েছে তার কিছুই জানিনা। আমি কোন রকম এ নিয়োগ বানিজ্যের সাথে জড়িত নই।

অভিযোগের ব্যাপারে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিমের কাছে জানতে চাইলে তিন সাংবাদিকদের সাথে দম্ভকি দেখিয়ে বলেন, এই সরকারের আমলে এ ধরনের অনিয়ন দূর্নীতি সব সেক্টরেই অহরহ ঘটছে। তাতে কি হয়? যদি কলমের জোর থাকে তবে লিখেন। পত্রিকায় লিখে নিয়োগ বাতিল করা যায়না। আমরা সব ম্যানেজ করেই নিয়োগ দিয়ে থাকি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নিয়োগ পরীক্ষার দিন ওখানে শতশত লোক উপস্থিত ছিল। সবকিছু নিয়ম কানুন অনুসারেই হয়েছে। এখানে কোন রকম অনিয়মের প্রশ্ন যদি কেউ তোলে সেটার কোন ভিত্তি নেই।