করোনায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু শনাক্ত ১৬০০

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৫ জনের মৃতু্য হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ৫ হাজার ৬০৮ জন মারা গেলেন। এর আগে ২৮ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জনের মৃতু্যর তথ্য জানিয়েছিল। তবে গত ১৭ মে এর চেয়েও কম সংখ্যা তথা ১৪ জন মৃতু্যর খবর দেওয়া হয়েছিল। গত একদিনে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬০০ জন। ফলে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৫৯ জনে দাঁড়াল।

প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত করোনাভাইরাসবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় সারাদেশে করোনার সর্বশেষ সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায়

বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১০৯টি পরীক্ষাগারে ১৪ হাজার ২৬১টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৪ হাজার ১০৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হলো ২১ লাখ ২৬ হাজার ৫৫২টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬০০ জন। তবে এ সময় নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৭৮০ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা পৃষ্ঠা ২ কলাম ২

\হদাঁড়াল ২ লাখ ৯৯ হাজার ২২৯ জনে। ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১৫ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মোট ৫ হাজার ৬০৮ জন মারা গেলেন

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৭৭ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং মৃতু্যর হার ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

সর্বশেষ মৃতু্যবরণকারীদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী। বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১ জন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছেন। বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ জন এবং সিলেট ও খুলনা বিভাগে একজন করে রয়েছেন। যাদের সবাই হাসপাতালে মৃতু্যবরণ করেছেন।

দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৫ হাজার ৬০৮ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৩১৪ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ২৯৪ জন নারী। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৮৯১ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ১ হাজার ৪৯৭ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৭০৮ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩১৪ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১২৬ জনের ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৪৫ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ২৭ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।

এর মধ্যে ২ হাজার ৮৬৩ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ১২৮ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩৬০ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪৫৩ জন খুলনা বিভাগের, ১৯৩ জন বরিশাল বিভাগের, ২৩৯ জন সিলেট বিভাগের, ২৫৪ জন রংপুর বিভাগের এবং ১১৮ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ১৭৮ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১২ হাজার ৩২৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২৫৮ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৭১ হাজার ৪৭১ জন এবং আইসোলেশন করা হয়েছে ৮৩ হাজার ৮০০ জনকে।

প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ৮৩৬ জনকে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়া পেয়েছেন ৮৪৯ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৫ লাখ ৪ হাজার ১০৯ জন। এখন পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ১৯৬ জনকে। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪০ হাজার ৮৭ জন।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ। ২১ সেপ্টেম্বর তা সাড়ে ৩ লাখ পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে গত ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা একদিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃতু্যর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ১০ অক্টোবর তা সাড়ে ৫ হাজারে দাঁড়ায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃতু্যর খবর জানানো হয়, যা একদিনের সর্বোচ্চ মৃতু্য ছিল।

বিশ্বে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ৩ কোটি ৮৫ লাখ পেরিয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১০ লাখ ৯২ হাজারের ঘরে। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে বাংলাদেশ ষষ্ঠদশ স্থানে রয়েছে। আর মৃতের সংখ্যায় ২৯তম অবস্থানে রয়েছে।