নগরীতে করোনার সুযোগে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের উৎসব

করোনার প্রকোপ বাড়ার ফলে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সময়ে দাপ্তরিক কাজ বন্ধ থাকার সুযোগে বরিশাল নগরীতে একটি পক্ষ বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করেই অবৈধ স্থাপনা নির্মান কাজ করেছে। অফিস বন্ধ থাকায় ভুক্তভোগী অনেকে এব্যাপারে কোন অভিযোগও দিতে পারেনি। তাই অনেকটা বাঁধা হীন ভাবেই নগরীর আনাচে কানাচে অবৈধ স্থাপনা নির্মান কাজ চলেছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের একটি সূত্র দাবি করেছে যেখানেই অনিয়ম চোখে পড়েছে অথবা কেউ অভিযোগ করেছে তখনই তারা ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করেছে। এবং এব্যাপারে তাদের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে করোনার কারনে দেশের অন্যান্য এলাকার ন্যায় বরিশালেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে লকডাউন করা হয়। এর ফলে সকল কর্মকান্ডে স্থবিরতা নেমে আছে। কিন্তু এ সুযোগটা কাজে লাগায় কিছু ভবন মালিক। সাধারণ ছুটির আগে যারা আইনী প্রক্রিয়ায় অথবা বৈধতা নিয়ে ভবন নির্মান করতে পারছিলোনা তারা সাধারণ ছুটির সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে ভবন নির্মান কাজ করে ফেলেছে। কিছু কিছু এলাকায় এখনো কাজ অব্যাহত আছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অনেকে অভিযোগ করে বলছে সিটি কর্পোরেশন বন্ধ থাাকায় তারা কোন অভিযোগও দিতে পারেনি। তাই অনেকটা বাঁধাহীনভাবেই অবৈধ নির্মান কাজ করা হয়েছে। নগরীর বেশ কয়েকজন অধিবাসী অভিযোগ করে বলেছেন অবৈধ নির্মানের ব্যাপারে কর্পোরেশনের লোকজনদের জানানো হলেও তারা অফিস বন্ধ থাকার দোহাই দিয়ে তেমন কোন ব্যবস্থা নেয়নি। আবার কেউ কেউ অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অজ্ঞাত কারণে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করেই ফিরে এসেছে। এক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করছেন। এব্যাপারে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ শাখার দায়িত্বশীল কেউই কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন উদাহরণসহ এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, নগরীর বাজার রোডে খাজা মঈনুদ্দিন মাদরাসার বিপরীতে জনৈক বাপ্পী সিকদার আধা পাকা স্টল ও পিছনের অংশে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মান করছে এধরণের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিলো। কালক্ষেপন না করে সেখানে কর্পোরেশন থেকে লোক সরেজমিনে সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। এখন সেখানে কাজ চলছে শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ পেলে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। শুধু ওই স্থান নয় যেখানেই অভিযোগ পাওয়া যাবে সেখানেই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বর্তমান মেয়রের সময়ে উৎকোচ গ্রহন করে কাউকে অনৈতিক সুবিধা দেয়ার সুযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।