বরিশাল বিভাগের কোন জেলায় কতজন করোনা রোগী

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাস ইতোমধ্যে বরিশালের ৬ জেলাতেই হানা দিয়েছে।শনাক্ত ও মৃত্যুর দিক থেকে তালিকায় সবার উপরে বরিশাল জেলা।এখানে করোনা রোগী শনাক্ত হয়ে ৫৬৬ জন। আর সবচেয়ে কম আক্রান্ত ভোলা জেলায়। এই জেলায় শনাক্ত হয়েছে ৬২ জন।

শনিবার (৬ জুন) বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে সরবরাহ করা   সবশেষ তালিকা থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।

 

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বরিশাল বিভাগে করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে বরিশাল জেলা ।এখানে করোনা রোগী শনাক্ত হয়ে ৫৬৬ জন। তালিকার দুই নম্বরে আছে পিরোজপুর । এই জেলায় বর্তমানে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৬ জন। তালিকার তিন নম্বরে আছে বরগুনা। এখানে শনাক্ত হয়েছে ৮০   জন।এছাড়া যথাক্রমে তালিকায় চার নম্বরে আছে পটুয়াখালী।পটুয়াখালী জেলায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭৫ জন। তালিকায় পাঁচ ও ছয় নম্বরে আছে যথাক্রমে ঝালকাঠি এবং ভোলা। এই দুই জেলার মধ্যে ঝালকাঠি জেলায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬৩ জন, অন্যদিকে সবচেয়ে কম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়া ভোলা জেলায় শনাক্ত হয়েছে ৬২ জন।

 

বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৯৩২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন ২১৪ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় নতুন করে আরও ৫৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

 

 

এছাড়া মারা যাওয়া করোনা পজেটিভ ১৮ জনের মধ্যে বরিশাল নগরের চান্দুরা মার্কেট এলাকায় ১ জন, কাজিপাড়ায় ১ জন, বাকেরগঞ্জে ১ জন ও মুলাদীতে ২ জনসহ মোট ৫ জন, পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলা, গলাচিপা, মির্জাগঞ্জ ও দুমকিতে ১ জন করে মোট ৪ জন, পিরোজপুর সদর  নেছারাবাদ ও নাজিরপুরে ১ জন করে মোট ৩ জন, বরগুনা জেলার আমতলী ও বেতাগীতে ১ জন করে মোট ২ জন, ঝালকাঠির নলছিটি ও কাঠালিয়াতে ১ জন করে মোট ২ জন, এবং ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশনে ১ জন করে মোট ২ জন রয়েছেন বলে জানান বাসুদেব কুমার।

 

 

সংক্রমণ প্রতিরোধে বিদেশ থেকে আগত ছাড়াও সংক্রমিত অন্য জেলা ও এলাকা থেকে আগতদের কোয়ারেন্টিনে রাখার কার্যক্রম এখনও চলছে। গত ১০ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ বিভাগের ৬ জেলায় মোট ১৫ হাজার ৬৪২ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

এদের মধ্যে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয় ১৪ হাজার ৫৫৭ জনকে। ইতোমধ্যেই তাদের মাঝ থেকে ১১ হাজার ৮৬৯ জন হোম কোয়ারেন্টিন শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এছাড়া বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন জেলায় হাসপাতালে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ১ হাজার ৮৫ জন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন থেকে এখন পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৪১ জন। এর বাইরে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিৎসা প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ৮১১। এরই মাঝে তাদের মধ্য থেকে ৩৬৫ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া শুধুমাত্র বরিশাল শের-ই- বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ও করোনা ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত মোট ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৯ জন করোনা পজেটিভ। বাকিরা করোনা উপসর্গে মারা গেছেন।