বরিশালে ২৪ ঘন্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড!

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সর্বোচ্চ সংখ্যক কোভিড-১৯ রোগী সনাক্ত হবার মধ্যে দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের করোনা পরিস্থিতি সংকটজনক পর্যায়ে পৌছেছে। শনিবার দুপুরের পূর্ববর্তি ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে ৪৩জন নতুন কোভিড-১৯ রোগী সনাক্ত হবার মধ্যে দিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫শ অতিক্রম করল। গত ২৪ ঘন্টায় করেনার হটস্পট বরিশালেই ২২ জন কোভিড-১৯ রোগী সনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে পুলিশ সদস্য সংখ্যা ১০।

 

এছাড়া মহানগরীর আলেকন্দার বুক ভিলা গলি, চাঁদমারী, রূপাতলী, ভাটিখানা, আমানতগঞ্জ ও আমতলা-জুমির খান সড়কেও একাধীক করেনা রোগী সনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

জেলার বাকেরগঞ্জে দুটি বেসরকারী ব্যংকের দুজন কর্মকর্তার রক্তে করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। রবিবার থেকে লক ডাউন শিথিল করার পরে পরিস্থিতির অবনতি আরো তড়ান্বিত হতে পাড়ে বলে আশংকা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের ।

 

গত ২৪ ঘন্টায় পটুয়াখালী ও ঝালকাঠীতে ৫ জন করে এবং পিরোজপুরে আরো এক জনের দেহে করেনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় করোনা সংক্রমিত রোগীর মোট সংখ্যা ৫০১-এ উন্নীত হল। তবে সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন ১৩৫ জন। গত ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার মধ্যে শুধুমাত্র ভোলাতে ১ জন করোনা রোগী সুস্থ্য হয়ে ঘরে ফিরেছেন।

 

আক্রান্ত জেলাগুলোর শীর্ষে থাকা বরিশালে মোট আক্রান্ত ২৩০। যার মধ্যে বরিশাল মহানগরীতেই এ সংখ্যা প্রায় পৌনে ২শ। জেলাটিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩১জন। আর এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৪৫ জন। মারা গেছেন একজন। এর পরের অবস্থান পিরোজপুর ও বরগুনার। এদুটি জেলাতেই ৬৪ জন করে করোনা আক্রান্ত হলেও বরগুনাতে মোট সুস্থ হয়েছেন ৩৯ জন। মারা গেছেন দুই জন। তবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এপর্যন্ত ৩১ জন।

 

অপরদিকে পিরোজপুরে এপর্যন্ত সুস্থ্য হয়েছেন ৬জন । মারা গেছেন ১ জন। তবে হাসপাতালে মোট ভর্তির সংখ্যা মাত্র ৪ জন। পটুয়াখালীতে আক্রান্ত ৫২ জনের মধ্যে এপর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৬ জন। মারা গেছেন ৩জন। তবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯জন। ঝালকাঠীতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ হলেও সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন ১৩ জন। মারা গেছেন দুই জন ।

 

আর এ যাবত হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ২৩জন। ভোলাতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪২ জন হলেও সুস্থ হয়েছেন ৬ জন। মারা গেছেন একজন। আর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৪ জন।

 

বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দক্ষিণাঞ্চলের সব জেলার রোগীর ভর্তি ও চিকিৎসা চলছে। এ হাসপাতালটির করোনা ও আসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত ১৯৭ জন রোগীর রক্তের নমুনা পরিক্ষায় এ পর্যন্ত ৫৪ জনের কোভিড-১৯ সনাক্ত হয়েছে।

 

শনিবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালটির আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১৩জন ও করোনা ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ সংখ্যক ২৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা হাসপাতালগুলোর আইসোলেশন ওয়ার্ডে এপর্যন্ত ৫৬৭ জন রোগী ভর্তি করা হলেও সুস্থ্য হয়ে ছাড়া পেয়েছেন ২৮৬জন।