দিক পরিবর্তন করে বরিশালের ঝুঁকি বাড়িয়েছে আম্ফান

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুপার সাইক্লোন “আম্ফান” আই (চোখ) আকৃতি ধারণ করেছে। আম্ফান কিছুটা বাঁক নিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এতে দৃশ্যত বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে গেছে। ফলে বরিশালের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপক প্রভাব করার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থার স্যাটেলাইট ইমেজ এবং গতিপথ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আম্ফান ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মূল আঘাত হানতে যাচ্ছিল। কিন্তু কিছুটা উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নেওয়ায় মঙ্গলবার দেখা যায়, আম্ফান পশ্চিমবঙ্গ থেকে কিছুটা ডান দিকে সরে বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্ত বরাবর সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানতে যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের দিকে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র প্রভাবিত পরিধি বেড়েছে।
মঙ্গলবার আবহাওয়ার ২৪ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে অনলাইন ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তাও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) আমরা বলেছিলাম, সাইক্লোনটা (আম্পান) উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। তারপর উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে কিছুটা বাঁক নিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে।’

এদিকে, আবহাওয়ার ২৫ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুপার সাইক্লোন আম্ফান উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

এটি আজ দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

ঘূর্ণিঝড়টি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে ১৯ মে মঙ্গলবার শেষরাত হতে ২০ মে বুধবার বিকাল বা সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়াবিদরা বলছেন, অতিসম্প্রতি দেশে আঘাত হানা ঘূণিঝড়গুলোর তুলনায় বেশি শক্তিশালী মনে হচ্ছে আম্ফানকে। শক্তি ও গতি-প্রকৃতি পর্যালোচনা করে এ সাইক্লোনকে সিডরের মতো শক্তিশালী বলে মনে করছেন তারা। তবে সুন্দরবন উপকূলে আঘাত হানলে ক্ষয়ক্ষতি হবে বলেও ধারণা তাদের।

এই ঘূর্ণিঝড় দেশের উপকূলে আঘাত হানবে- এটা অনেকটা নিশ্চিত। ঢেউয়ের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-১০ ফুটের বেশি হতে পারে।